রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

First Youth News Portal in Bangladesh

add 468*60

শিরোনাম

ভিন্ন রঙে আঁকা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের গুরুত্ব ও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আত্মহত্যা সমাধান নয় যেভাবে প্রাণের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে দেখতে চাই অত:পর, কোন একদিন...... দ্রুত ওজন কমানোর কিছু কৌশল জাপানের সুমিতমো বৃত্তি পেল ঢাবির ৪০ শিক্ষার্থী চীন যাচ্ছে ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি (আইএমটি) বাগেরহাটের ১০ শিক্ষার্থী ইন্টারনেট ও তরুণ প্রজন্ম জাপান সরকার দিচ্ছে মেক্সট স্কলারশিপ উচ্চ মাধ্যমিকের পর ক্যারিয়ার পরিকল্পনা মাসের খরচের টাকা বাঁচিয়ে ব্যতিক্রম লাইব্রেরি চালান রাজশাহীর বদর উদ্দিন ঢাকায় প্রথম পিআর অ্যান্ড ব্র্যান্ড কমস সামিট ২৬ অক্টোবর রাজনীতি-ক্ষমতা ও তারুণ্য গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও তারুণ্য

ভিন্ন রঙে আঁকা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস 

কাজী সৌরভ আহমেদ

উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পরেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন চিন্তার আবির্ভাব ঘটে। চিন্তাটা বিশ্ববিদ্যালয় জীবন নিয়ে। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা অনুয়ায়ী উচ্চ শিক্ষার জন্য কলেজ জীবন শেষ করার পরেই শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হয়। তবে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারার সুযোগ পাওয়াটা এতোটা সহজ নয়। কয়েক মাস তীব্র পরিশ্রমের পর দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে ঘুরে শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। মনে শঙ্কা আর বুকে বিশ্বাস নিয়ে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন দেখে।

ভর্তি হওয়ার আগের অনুভূতিটা থাকে ভিন্ন। তবে ভর্তি হওয়ার পর তারা অন্য গল্পের প্রত্যক্ষ সাক্ষী হয়। পাবলিক ভার্সিটির প্রতিটা ক্যাম্পাস হাজার রকমের ভিন্ন গল্পে ভরপুর। সকাল বেলা দামি খাবার দিয়ে নাস্তা করে আসা আদরের দুলাল ও এখানে পাবেন আবার না খেয়ে আসা বা হলের ক্যান্টিন থেকে ১০ টাকার খিচুড়ি খেয়ে আসা কিংবা নিজেরা রান্না করে খেয়ে আসা মধ্যবিত্ত-নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তানদেরও এখানে পাবেন। এখানের অনেক শিক্ষার্থী বাসায় বাবা-মায়ের সাথে থাকে, আবার অনেকে হলে থেকে বাবা-মায়ের পাঠানো টাকায় সারা মাস হিসাব করে চলে, আবার অনেকে টিউশনি করে নিজের খরচ চালিয়েও দূরে থাকা বাবা-মা কে টাকা পাঠায়। রান্না না জানা মেয়েটির মুখে যখন ক্যাম্পাসের খাবার খেতে খেতে অরুচি আসে তখন সেও রান্নায় পারদর্শী হয়ে ওঠে।

বাসা-বাড়িতে আলসেমি করে বা আদর পেয়ে গ্লাসে পানি ঢেলে না খাওয়া ছেলে-মেয়েগুলাও ক্যাম্পাসে এসে কাপড় ধোয়া থেকে শুরু করে নিজের সমস্ত কাজ নিজেই করে। এখানে কেউ বন্ধু-বান্ধবদের মাঝে ভালোবাসা খুঁজে পায় আবার কেউবা প্রেমিক-প্রেমিকার মাঝে। কাছের কিছু বন্ধুদের নিয়ে সাধারণত এখানে এক একটা সার্কেল গড়ে ওঠে। মোটামুটি সবাই নিজের মনের মতো বন্ধু খুঁজে নেয়, আবার অনেকে নিজেকে আড়ালে রাখতে পছন্দ করে। এখনে কেউ সারাদিন ক্লাস করে ক্লান্ত হয় আবার কেউ সারাদিন রাজনৈতিক কর্মকান্ডে ব্যস্ত থাকে। কেউবা আড্ডা দিয়ে সময় কাটায়, কেউবা ভালোবাসার মানুষের হাতটা ধরে অনেকটা পথ হেঁটে যায়। কেউ পায়ে হেঁটে ক্লাস করতে আসে কেউবা দামী বাইক নিয়ে আসে। হলের মধ্যে কেউবা রাত জেগে তাস খেলে, আনন্দ-ফূর্তি করে। আবার কেউ হয়তো রিডিং রুমে বসে পড়াশোনা করে। অনেকে হয়তো মুখ লুকিয়ে ব্যর্থতার কথা ভেবে বা বাবা-মায়ের কথা মনে করে কাঁদে। কেউ হয়তো গিটারের তালে চিৎকার করে গান গেয়ে মনের আকুতি প্রকাশ করে, কেউবা সিগারেটের ধোঁয়ার সাথে মনের সব বেদনা উড়িয়ে দেয়।

সারারাত কনসার্টে নাচানাচি করা, নেশা করে মাতাল হওয়া, মারামারি করা শিক্ষার্থীও এখানে আছে। আবার গরীব-অসহায়দের নিয়মিত সাহায্য করা শিক্ষার্থীও এখানে আছে। এখানে কেউ নিজেকে লুকিয়ে রাখে, কেউবা বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়ে নিজেকে বিকশিত করার চেষ্টা করে। দেশের প্রয়োজনে এরা কখনো হাত গুটিয়ে বসে থাকে না। কেউ মুমূর্ষু রোগীকে রক্ত দান করে আবার কেউবা রাজপথে তীব্র আন্দোলন করে জনগণের অধিকার আদায় করে। এমন আরো হাজারো গল্প এখানে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হয়।

মোট কথা, সব ধরণের মানুষ এখানে আপনি পাবেন। তবে এতোকিছুর মাঝেও পাবলিক ভার্সিটির ছেলে-মেয়েগুলা বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোঁটানোর স্বপ্ন দেখে। তারা স্বপ্ন দেখে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার, সুন্দর একটা সুখী পরিবার পাবার, তারা এমন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে যে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। সেই বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য তারা নিরন্তর কাজও করে। দিন শেষে এই ক্যাম্পাস থেকেই শিক্ষক তৈরি হয়, বিসিএস ক্যাডার তৈরি হয়, ব্যাংকার তৈরি হয় এবং তৈরি হয় মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার নিমিত্তে মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ।

শিক্ষার্থীঃ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।